লোডশেডিংয়ের প্রভাব সড়কবাতিতেও, রাতে চলাচলে ভোগান্তি

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকটের জেরে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সড়কবাতি ব্যবস্থার ওপরও, যার ফলে রাতের বেলা নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় দীর্ঘ সময় ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর বাতিগুলো নিভে থাকছে। এতে সন্ধ্যার পর থেকে রাতের একটি বড় সময় পর্যন্ত ব্যস্ত রাজপথগুলোও ভুতুড়ে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, যা নগরজীবনকে আরও বেশি অস্বস্তিকর করে তুলেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যে, ব্যস্ত প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি কিংবা সংযোগস্থল—সব জায়গাতেই লোডশেডিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে সড়কবাতিগুলো নিভে যায়। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এই অন্ধকার দীর্ঘায়িত হওয়ায় পথচারী এবং যানবাহন চালক উভয়ের জন্যই বড় ধরনের বিপত্তির সৃষ্টি হচ্ছে। রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর অভাবে নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা জনমনে চরম অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও দুই চাকার বাহনচালকদের জন্য এই অন্ধকার সড়কগুলো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর কাঁটাবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাতে আকস্মিক বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে সড়কবাতি বন্ধ থাকার বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পথচারী আবু হাকিম জানান, বিদ্যুৎ যাওয়ার পর পুরো সড়ক অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় যানবাহনের হেডলাইটের ওপর নির্ভর করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। তিনি উল্লেখ করেন, অন্ধকারের কারণে রাস্তার ছোটখাটো গর্ত বা সামনে থাকা মানুষের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ঠাওর করা যায় না, যার ফলে প্রায়শই নানা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি এই সুযোগে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

যানবাহন চালক ও রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এই পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন তীব্র ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। মোটরসাইকেল চালক নোমান আলী ও রাইড শেয়ারার মিতুল হাসান জানান, রাতের বেলা হুট করে সড়কবাতি নিভে গেলে রাস্তায় থাকা খানাখন্দ বা বিপদগুলো ঠিকমতো দেখা যায় না। এর ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং কেউ কেউ ইতোমধ্যেই দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছেন। চালকরা দাবি জানিয়েছেন, অন্তত বিকল্প কোনো উপায়ে জরুরি ভিত্তিতে সড়কবাতিগুলো সচল রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে নগরবাসী নিরাপদে রাতে চলাচল করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *