শরীয়াহবিরোধী আইনের সমাধান না হলে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬-এর হেবা সংক্রান্ত বিধানের তীব্র সমালোচনা করে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সম্প্রতি আনা এই সংশোধনী সরাসরি ইসলামের উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি বাস্তবায়িত হলে পবিত্র কুরআনের অকাট্য বিধানগুলো উপেক্ষিত হবে। দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর এই আঘাত কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে তারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আয়োজিত কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে এই কর্মসূচি পালিত হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, একজন সাধারণ মুসলমান ব্যক্তিগত জীবনে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শরিয়তের কোনো বিধান আংশিক অমান্য করলে তা আল্লাহর কাছে ক্ষমার যোগ্য হতে পারে, কিন্তু শরিয়তের বিধান পাশ কাটানোর জন্য রাষ্ট্রীয় আইন তৈরি করা আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি ধৃষ্টতা প্রদর্শনের শামিল।

সমাবেশ থেকে সরকারের উদ্দেশে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানানো হয় যে, পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী কোনো আইন এ দেশের মাটিতে বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না। প্রবীণ নাগরিক ও পিতা-মাতার স্বার্থ রক্ষার্থে সমাজজুড়ে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করে নেতারা বলেন, শিশুদের মনে মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পিতা-মাতার প্রতি অবহেলার বিষয়টি কঠোরভাবে দমন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর কোনো সফলতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের চলমান সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন। অবিলম্বে এসব জনদুর্ভোগ নিরসন করা না হলে এবং বিতর্কিত আইন প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *