শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি, শেষ হলো ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভূমুখী লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি নির্ধারিত দিনে সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। দিনভর নানা পথসভা ও কর্মসূচি পেরিয়ে গভীর রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এক বিশাল সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে এই লংমার্চের সমাপ্তি ঘটে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই দীর্ঘ পথযাত্রায় প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেয় এবং বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান অতিক্রম করার সময় পথে পথে স্থানীয় জনসাধারণের ব্যাপক স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। কুমিল্লার লংমার্চে অংশ নেওয়া মাহবুব নামক এক জামায়াত সমর্থক গণমাধ্যমকে জানান যে, সাধারণ মানুষের এই ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে বর্তমান প্রশাসন জনগণের মৌলিক চাহিদা মেটাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। একইভাবে ঢাকা থেকে আগত এনসিপির কর্মী রানা এই কর্মসূচিকে পুরোপুরি সফল হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, জনগণের অধিকার আদায়ের চলমান লড়াইয়ে তাদের এই জোট ভবিষ্যতেও রাজপথে সরব থাকবে।

চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জনদুর্ভোগের চিত্র অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হলেও নিয়মিতভাবে ভুতুড়ে বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের চরম ঘাটতির কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পোৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এই মহাসমাবেশ শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংকট নিরসনে সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই লংমার্চটি রাজনৈতিক অঙ্গনে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেषকদের মতে, ছয় দফা দাবিতে আয়োজিত এই বৃহৎ কর্মসূচি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য এবং রাজপথের শক্তিমত্তাকে নতুন মাত্রা দান করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *