শাহজালালে সেই মাহদীকে আটকে দিল ইমিগ্রেশন

জাতীয় ডেস্ক: থানা পোড়ানো সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসা হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসান বিদেশ যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে বাধার মুখে পড়েছেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই তাকে ফেরত পাঠিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। সম্প্রতি একটি ফ্লাইটে বিদেশ যাওয়ার প্রাক্কালে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাকে দেশ ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে আবুধাবি হয়ে জামাইকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাহদী। তবে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তার পাসপোর্ট স্ক্যান করার পর কম্পিউটারের সিস্টেমে তার নাম ‘স্টপ-লিস্টেড’ হিসেবে প্রদর্শিত হয়। এরপর দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে সঙ্গে সঙ্গে ইমিগ্রেশন প্রসিকিউশন অফিসে নিয়ে যান এবং বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করেন। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে যে তাকে কোনো ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা না হলেও ভ্রমণ সংক্রান্ত আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে তাকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইমিগ্রেশন পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় মাহদীর বিদেশগমনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। মূলত সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগে ওই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। এর আগে গত জানুয়ারি মাসের শুরুতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। ওই ভিডিওতে তাকে পুলিশকে উদ্দেশ করে অত্যন্ত বিতর্কিত একটি মন্তব্য করতে শোনা যায়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সে সময় পুলিশ একজন সাবেক নিষিদ্ধছাত্রলীগে নেতাকে আটক করার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়েছিলেন মাহদীসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে এবং পরবর্তীতে ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। যদিও ওই মামলায় দ্রুত জামিন পান মাহদী, তবুও তার বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জেরে আইনি জটিলতা কাটেনি। এর আগে গত আগস্ট মাসেও অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ করার অভিযোগে হবিগঞ্জ থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল এবং মুচলেখা দিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *