শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

জাতির সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের যেকোনো মূল্যে নিয়মিত পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা অত্যন্ত জরুরি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলেই কেবল একটি শক্তিশালী জাতি গঠন করা সম্ভব। বিগত দিনে নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি সবসময় কঠিন ও নীতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেছেন যা শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পেছনের কিছু পর্দার পেছনের গল্পও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ফলাফল প্রকাশের আগে বিভিন্ন মহল থেকে পরীক্ষা পেছানোর জন্য নানা চাপ ও পরামর্শ এসেছিল এবং অনেকে নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে কৃত্রিমভাবে ফলাফল ভালো দেখানোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই অন্যায্য পথে না হেঁটে প্রকৃত সত্যের ওপর দাঁড়িয়েই ফলাফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানোর পর তিনিও এই সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং জানান যে কাজের জন্য যতটুকু মূল্যায়ন প্রাপ্য, ঠিক ততটুকুই হওয়া উচিত, ফলাফল যেমনই হোক না কেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা ভাবনার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী করতে আনন্দদায়ক শিখন পরিবেশের পাশাপাশি খেলাধুলা ও বই পড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটানো হচ্ছে বলে তিনি জানান। শিক্ষার্থীরা যাতে মাঝপথে ঝরে না পড়ে, সেজন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, মিড-ডে মিল এবং স্কুল ড্রেস দেওয়ার মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষাই সবচেয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় এবং এ খাতের উন্নয়নে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।

বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার ও মোবাইল আসক্তি দূর করার ক্ষেত্রে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের সামাজিক কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। অনুষ্ঠানে অসুস্থতার কারণে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পেরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি এই দীর্ঘ পথচলায় নানা প্রতিকূলতা ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিকাশ ও এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *