শেয়ারবাজারে ধস, ভেঙে গেল ৬ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট

দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে এবং প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক একদিনেই একশ পয়েন্টের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে এতদিন বাজারের যে গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক স্তর বা সাপোর্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল, সেই ছয় হাজার পয়েন্টের ঘরও ভেঙে নিচে নেমে গেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা বিক্রির চাপে পড়ে এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে পতনের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, এদিন বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। দিনশেষে তালিকাভুক্ত মাত্র কুড়িটি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে প্রায় সাড়ে তিন শ প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে এবং বাকিগুলোর দর অপরিবর্তিত ছিল। ভালো মানের তথা দশ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর বড় একটি অংশের শেয়ারের দামও হ্রাস পেয়েছে। মূল্যপতন ঘটায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে পাঁচ হাজার পাঁচ শ আটান্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে, আর শরীয়াহ ও বাছাই করা ত্রিশ কোম্পানির সূচকও বড় ব্যবধানে কমেছে।

সূচক হ্রাসের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক লেনদেনের পরিমাণও আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেশ কিছুটা কমেছে। এদিন বাজারটিতে পাঁচ শ কোটির বেশি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় দেড় শ কোটি টাকারও বেশি কম। বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, মালেক স্পিনিং ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় অবস্থান করেছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন ঘটেছে এবং সার্বিক সূচক ও লেনদেনের পরিমাণে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

বাজারের এই আকস্মিক ও বড় ধরনের পতনের পেছনে অর্থনীতির নানাবিধ মৌলিক দুর্বলতা ও অতিরিক্ত প্রত্যাশার সংশোধন বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী জানান, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ ব্যাংক সুদহারের কারণে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে লভ্যাংশের ওপর। এছাড়া ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ-র সভাপতি সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে এবং বাজারে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতার ঘাটতি থাকায় পতন দ্রুত বড় আকার ধারণ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *