সংকট নিরসনের কমিটিতে নেই চুয়েটের কেউ

শিক্ষা ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার প্রায় এক মাস পূর্ণ হতে চলেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের ২১ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সাবেক উপাচার্যকে অপসারণ করে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলে মূলত এই সংকটের সূত্রপাত হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন এবং পরবর্তীতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ আন্দোলনে যুক্ত হন। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে রয়েছে।

সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পরামর্শক কমিটি গঠন করলেও তা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই ছয় সদস্যের কমিটিতে বুয়েট, চবি, সিভাসু ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রাখা হলেও চুয়েট থেকেই কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নিয়ে মূল সংকট, সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক বা প্রতিনিধি এই কমিটিতে না থাকায় সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর অনলাইনে অনুষ্ঠিত চুয়েটের সিন্ডিকেট সভা নিয়েও নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। ১৫ সদস্য বিশিষ্ট ওই সিন্ডিকেট সভায় মাত্র ছয়জন উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানেও চুয়েটের কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি অংশ নেননি। মূলত ওই বিতর্কিত সভার সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ইউজিসি এই তদন্ত ও পরামর্শক কমিটি গঠন করে। ফলে এই পুরো প্রক্রিয়াটির বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে চুয়েটের শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এদিকে ক্যাম্পাসে বর্তমানে পূজার ছুটি চলায় ফাঁকা পরিস্থিতি বিরাজ করলেও মূল সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। ছুটি শেষে কীভাবে শিক্ষাকার্যক্রম স্বাভাবিক হবে কিংবা স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি কীভাবে নির্ধারিত হবে, সে বিষয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁদের অনড় অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত এবং বর্তমান উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *