সরকারকে সময় না দিয়ে বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: মনির

রাজনীতি ডেস্ক: বর্তমান সরকারের কার্যক্রম সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য যথেষ্ট সময় না দিয়েই বিরোধী দলগুলো অন্ধভাবে বিরোধিতা করে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. কাজী মনিরুজ্জামান মনির। সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক পর্যালোচনার কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া প্রজন্ম দল কর্তৃক ‘দেশ গঠনে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের গতিশীলতা বাড়াতে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে কাজী মনিরুজ্জামান বলেন যে, দলীয় চেয়ারপারসনের অনুমোদন সাপেক্ষে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হলে কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের কাছে পত্র পাঠানোর পরামর্শ দেন। এছাড়া জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, বিদেশি কোনো শক্তির দিকে না তাকিয়ে সবার আগে দেশের সার্বভৌমত্বকে টিকিয়ে রাখাই বিএনপির মূল নীতি।

রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন নীতির উদাহরণ টেনে তিনি জানান যে, অতীতে রাষ্ট্রীয় বাসভবনে শুধু খাদ্য বাবদ বিশাল অংকের অর্থ অপচয় করা হতো, যা বর্তমান প্রশাসনের সুব্যবস্থাপনায় বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের সংকট দূর করতে দিনের বেলা কৃত্রিম আলোর পরিবর্তে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে এই রাজনৈতিক নেতা জানান যে, সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষি কার্ডসহ নানা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অতীতের দমনপীড়নের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন যে, বিগত আমলে মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হলেও বর্তমান প্রশাসনের আমলে অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

ধর্মীয় উৎসব বা পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভাজন ও কাদা-ছোড়াছুড়ির তীব্র সমালোচনা করেন কাজী মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন যে, তুচ্ছ বিতর্ক তৈরি না করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষাকেই সবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সংগঠনের সহসভাপতি মেহেদী হাসান মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আরও বক্তব্য দেন মো. আকরাম হোসেন মিনহাল, এইচ এম ইমরান হোসেন ও মো. খোরশেদ মাদবরের মতো বিশিষ্ট সংগঠনের নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *