সরাসরি তালিকাভুক্তিতে ফিরল বেসরকারি কোম্পানি

দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছর পর বেসরকারি কোম্পানির জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ উন্মুক্ত করেছে সরকার। পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন ও পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই সংক্রান্ত আগের নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না গিয়েই বড় বড় বেসরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এতদিন এই বিশেষ সুবিধা কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সংরক্ষিত ছিল, যা এখন থেকে দেশের পুরো করপোরেট খাতের জন্যই প্রযোজ্য হলো।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা পুরোনো নিষেধাজ্ঞাটি বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের করা সুনির্দিষ্ট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের দুই প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নামী বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির অংশগ্রহণের পথ সুগম হলো।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পর পরই নড়েচড়ে বসেছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। সরাসরি তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া মসৃণ ও নিয়মতান্ত্রিক করতে সংস্থাটি একটি জরুরি কমিশন সভার আয়োজন করেছে। যেখানে নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং পরবর্তীতে তা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হবে। নতুন খসড়া বিধিমালায় নির্দিষ্ট মাপকাঠির বড় দেশীয় কোম্পানি, বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং বৃহৎ প্রযুক্তি ও টেলিকম অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর কিছু অন্তর্নিহিত ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ভালো মানের কোম্পানি বাজারে এলে বিনিয়োগের বিকল্প বাড়বে এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন আসবে। তবে অতীতে ২০১০ সালের মন্দার পর অনিয়ম ও কারসাজির ইতিহাস থাকায় নতুন ব্যবস্থায় যাতে কোনো অযোগ্য প্রতিষ্ঠান সুযোগ না পায়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং শেয়ারের সঠিক মূল্য নির্ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর শর্ত ও নজরদারির মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *