স্কুলে ছেলের সঙ্গে ঝগড়া, শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের আছাড়

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রকে নির্মমভাবে মারধর ও আছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে সম্প্রতি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে সংঘটিত এই সহিংসতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে।

পুলিশ ও বিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি শেষ করে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায়। এর আগের দিন দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি সাধারণ বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা বা ঝগড়া হয়েছিল। সেই পুরনো ক্ষোভের জেরে অভিযুক্ত অভিভাবক নাহিদ শেখ সরাসরি বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং নিজের ছেলেকে মারধরের সন্দেহে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি কোনো কিছু না ভেবেই শ্রেণিকক্ষের ভেতরে থাকা হাবিব নামের ১৩ বছরের এক কিশোর শিক্ষার্থীকে জাপটে ধরে পরপর তিনবার মাটিতে আছাড় দেন।

সহপাঠীর ওপর এমন অতর্কিত ও হিংসাত্মক হামলা দেখে ক্লাসে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করে। তাদের চিৎসল শুনে শিক্ষক ও অন্য স্টাফরা দ্রুত দৌড়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহসিকতার সঙ্গে অভিযুক্ত নাহিদ শেখকে ধরে তার নিজের কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় থানা-পুলিশকে অবিহিত করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বাহিনী দ্রুত বিদ্যালয়ে এসে উপস্থিত হয় এবং অভিযুক্ত ওই অভিভাবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিশুদের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ হতেই পারে, তবে তার বিচার পাওয়ার জন্য আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম রয়েছে। প্রধান শিক্ষককে না জানিয়ে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে এভাবে একটি ছোট বাচ্চাকে মারধর করা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, অভিযুক্ত অভিভাবক বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ জানিয়েছেন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *