স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে উঠেছিলেন, পরে মিলল নারীর রক্তাক্ত লাশ

কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমা আক্তার নামের এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি রাতে স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের সঙ্গে থাকা দুই বছরের একটি শিশু সন্তান অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেলেও তার সঙ্গে থাকা এক যুবক পলাতক রয়েছেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে ওই যুবক ও নারী নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে ওই কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। হোটেলের খাতায় তাদের বাড়ি ঈদগাঁও উপজেলার ভাদিতলা এলাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন কক্ষ পরিচ্ছন্ন করতে গিয়ে ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পরে তিনি ওয়াশরুমের দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ওই নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার চান্দেরঘোনা এলাকায় এবং তার বাবার নাম আলম বলে জানা গেছে।

এদিকে এই মৃত্যুকে ঘিরে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে কারণ নিহতের পরিবারের দাবি, হোটেলে স্ত্রীর সঙ্গে থাকা ওই যুবক তার প্রকৃত স্বামী হারুন নন। পরিবারের সদস্যরাও ওই যুবককে চেনেন না বলে জানিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত কুলসুমার প্রকৃত স্বামী হারুনের সঙ্গে একটি আইনি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলার হাজিরা দিতেই তিনি কক্সবাজার শহরে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হোটেলের কর্মীরা ওই যুবকের নাম আরফান বলে উল্লেখ করলেও তার আসল পরিচয় নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।

নিহতের সঙ্গে থাকা ওই যুবক কুলসুমার পূর্বপরিচিত কি না বা কীভাবে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একই কক্ষে উঠেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, মৃত নারীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি তার স্বামী নন এবং তাকে শনাক্ত করার জন্য পুলিশ মাঠে নেমেছে। হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং রেজিস্টার খাতা পর্যালোচনা করে অজ্ঞাত ওই যুবককে আটকের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেফতার করা গেলে এই হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *