হরমুজে মার্কিন তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রুট ব্যবহারকারী জাহাজকে ইরানের সতর্কবার্তা

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরালোভাবে বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। সম্প্রতি সম্প্রচারিত একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির উপ-কমান্ডার আলি ফাদাভি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, এই জলপথের দক্ষিণাংশে যদি কোনো বাণিজ্যিক জলযান যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রুট ব্যবহার করে, তবে সেটিকে যেকোনো মুহূর্তে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

আলি ফাদাভি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে ওমান উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত ওই রুটটি দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে। যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি এই রপ্তানি পরিমাণকে অত্যন্ত নগণ্য বলে অভিহিত করেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালির মূল নিয়ন্ত্রণ এখনো তেহরানের হাতেই রয়েছে এবং তারা পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নজরদারি বজায় রাখছে।

এই সাক্ষাৎকারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যেকোনো ধরনের হুমকি বা আগ্রাসী পদক্ষেপের সম্ভাবনা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন এই শীর্ষ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা। তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে আফগানিস্তান এবং ইরাক সংঘাতে ওয়াশিংটন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলেও তাদের সেই একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন প্রশাসনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি তেহরানের শক্ত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে ইরানের এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ইতোমধ্যে সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে গেছে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ ভাগে এই অঞ্চল থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি পঁচাশি লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পাঠানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পাশাপাশি গালফ অব ওমানের টার্মিনাল এবং এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এই রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *