হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের সংক্রমণ এবং এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে অথবা এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসকরা দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছেন এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে একশ জন এবং উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৯১২ জন। সম্প্রতি একদিনের ব্যবধানে ঢাকা বিভাগে একজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও চৌত্রিশ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত তেষট্টি জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপরেই রয়েছে বরিশাল বিভাগ, যেখানে প্রাণ হারিয়েছে উনিশ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর দিক থেকেও ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে, যেখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারশো আট জন মারা গেছে। এছাড়া সিলেট বিভাগে একশো সাতান্ন জন এবং রাজশাহী বিভাগে তিরানব্বই জন এই উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

রোগের বিস্তার রোধে হাসপাতালে রোগীর ভিড় এবং ভর্তির হার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আটশো ছিষট্টি জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মোট হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় এক লাখ উনপঞ্চাশ হাজার চারশো একাত্তরে উন্নীত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এর মধ্যে ইতোমধ্যেই এক লাখ তেতাল্লিশ হাজার আটশো চৌষট্টি জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

বর্তমানে সারা দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা এক লাখ উনসত্তর হাজার আটশো বাইশ জনে পৌঁছেছে। এর বিপরীতে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে উনিশ হাজার নয়শো সাতষট্টি জনে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি শিশুদের দ্রুত টিকা দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *