হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চীনের সহযোগিতা চেয়েছে সৌদি আরব

সৌদি আরবের ওপর ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক চাপ বৃদ্ধির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চীনের কূটনৈতিক সহযোগিতা চেয়েছিল রিয়াদ। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ দেশটিতে হুথিদের লাগাতার হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সৌদি কর্তৃপক্ষ বেইজিংয়ের শরণাপন্ন হয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং কৌশলগত অংশীদারদের সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই সৌদি আরব এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল বলে জানা যায়।

সৌদি আরবের এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চীন তাৎক্ষণিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে এবং বিষয়টিতে মধ্যস্থতার ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গেই পরিচালনা করা হয়, যাতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে কোনো ধরনের অনভিপ্রেত জটিলতা তৈরি না হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বেইজিং গোপনে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। চীন সরাসরি ইরানকে আহ্বান জানায় যেন তারা তাদের মিত্র হুথি গোষ্ঠীকে সামরিক অভিযান থেকে নিবৃত্ত করে এবং সংযত হওয়ার পরামর্শ দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যের নিরাপত্তার জন্য এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা চীনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চীনের ভূমিকা আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যার প্রমাণ মিলল এই গোপনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপেও। একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার রাখা এবং অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের ভারসাম্য বজায় রাখাই বেইজিংয়ের মূল কৌশল। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে চীনের প্রভাব ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা আরও একবার স্পষ্ট হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *