১২০ বিঘার ফলবাগান গড়েছেন চুয়াডাঙ্গার সাদ্দাম, বছরে আয় ২ কোটি টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক: বেকারত্বকে পেছনে ফেলে কৃষিকে জীবনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার এক উদদ্যোক্তা। চাকরি হারিয়ে সম্পূর্ণ শূন্য থেকে শুরু করে আজ তিনি সফলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পেয়ারা চাষ দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর সেই ছোট উদ্যোগটি সময়ের ব্যবধানে এক বিশাল বাণিজ্যিক রূপ ধারণ করেছে। কঠোর অধ্যবসায় আর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার বদৌলতে বর্তমানে তাঁর এই কৃষি খামার এক লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র তিন বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষাবাদ শুরু করেছিলেন এই তরুণ। নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়াতে শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর এই মিশ্র ফলবাগান ও নার্সারির আয়তন প্রায় ১২০ বিঘায় উন্নীত হয়েছে। এই বিশাল খামারে উৎপাদিত হচ্ছে নানা ধরনের ফল, যা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও তাঁকে দারুণ স্বাবলম্বী করে তুলেছে।

সাফল্যের এই যাত্রায় তাঁর বার্ষিক আয় এখন প্রায় দুই কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে খামারটি সবসময় লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। শুধু নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনই নয়, বরং এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। এলাকার বেকার যুবকদের জন্য তিনি এখন অনুকরণীয় এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

কৃষি খাতে এমন যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে এই উদদ্যোক্তা প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়েও বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো সহায়তা ছাড়াই কেবল নিজের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে তিনি এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের কৃষিক্ষেত্রে আরও বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *