১৫ হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়েছেন টুলু

দীর্ঘ সময় ধরে জীবনের শেষ বিদায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন আব্দুস ছোবাহান টুলু। মানুষের অন্তিম যাত্রার এই নীরব সাক্ষী বছরের পর বছর ধরে আপন দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন। দিন কিংবা রাত, শহরের যেকোনো প্রান্তে মৃত্যুর খবর পৌঁছানোমাত্রই শুরু হয় তার কর্মতৎপরতা। এই দীর্ঘ পেশাগত জীবনে তিনি মানুষের শেষ ঠিকানার ব্যবস্থা করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

কবর খোঁড়ার এই দীর্ঘ যাত্রায় টুলু ইতোমধ্যে অবিশ্বাস্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ১৫ হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়েছেন নিজ হাতে। তীব্র গরম কিংবা বর্ষা—কোনো প্রতিকূলতাই তার এই মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব থেকে তাকে বিরত রাখতে পারেনি। সমাজের মানুষের জীবনের চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি এই কাজটি এক ধরনের ইবাদত ও সেবা হিসেবেই গণ্য করেন।

তার এই দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের গল্প এলাকার মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। সমাজের প্রতিটি কঠিন সময়ে স্বজনহারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অনেকেই তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তার এই সেবামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মৃত্যুর মতো অবধারিত সত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

বয়সের ভারে শরীর হয়তো আগের মতো সায় দেয় না, তবুও টুলুর মনের জোর ও কাজের স্পৃহা এখনও অটুট রয়েছে। যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন তিনি এই মহৎ কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তার এই জীবন ও কর্ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করেছে, যা তাকে এক অন্যরকম মর্যাদায় ভূষিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *