২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: দুলু

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাজ আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এমন ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। দেশের উত্তর জনপদের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই মেগা প্রকল্পটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর তিস্তা নদীর অনিয়ন্ত্রিত গতিপ্রকৃতির প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং ক্ষতিকর। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির প্রবল স্রোতে নদী ভাঙন ও প্লাবনের কবলে পড়ে লাখ লাখ মানুষ নিঃস্ব হয়, আবার শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট। এই বহুমুখী সংকটের স্থায়ী সমাধানের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে এলাকার সার্বিক ভূ-প্রাকৃতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হবে।

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে জনবহুল ও প্রান্তিক এই এলাকার উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে অত্যন্ত উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির বিভিন্ন প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব ধরনের প্রশাসনিক ও প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া শেষ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ শুরু করতে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু হলে তা দেশের উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নদীর দুই পারের লাখ লাখ মানুষ স্থায়ী নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। সরকার নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে সফলভাবে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করে এগিয়ে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *