৩৫ বীমা কোম্পানির কাছে পাওনা ৪৬৬০ কোটি টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক: গ্রাহকদের সঞ্চয়ের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত হলেও দেশের বীমা খাতে বর্তমানে এক তীব্র আস্থার সংকট বিরাজ করছে। বীমা পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে নিজ জმানো টাকা তোলার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে অসংখ্য গ্রাহককে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবন বীমা খাতের ৩৫টি কোম্পানির কাছে গ্রাহকদের অনিষ্পন্ন দাবির বিশাল পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৬০ কোটি টাকায়। পাশাপাশি সাধারণ বীমা খাতেও বকেয়া দাবির পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বীমা পলিসি খোলার সময় বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্টরা লোভনীয় মুনাফা ও আর্থিক নিরাপত্তার নানামুখী প্রতিশ্রুতি দিলেও মেয়াদপূর্তির সময় শুরু হয় নানা ধরনের হয়রানি। কোম্পানির আঞ্চলিক ও প্রধান কার্যালয়ে মাসের পর মাস ঘুরেও টাকা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। চিকিৎসা কিংবা সন্তানের পড়াশোনার মতো জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে না পারায় মাঠ পর্যায়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসোভন ক্ষোভ বাড়ছে। আর এসব কারণে পুরো বীমা খাতের ভাবমূর্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

গ্রাহকদের এই দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ। সংস্থাটির বর্তমান নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে ইতোমধ্যে কয়েক দফায় ১৬ হাজারের বেশি গ্রাহকের প্রায় ৬৪ কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। বকেয়া দাবি দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে বেশ কিছু বীমা কোম্পানির সম্পদ নগদায়নের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন উদ্যোগকে বিশেষজ্ঞরা সাধুবাদ জানালেও এই সংকট উত্তরণে আরও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহীদ মনে করেন, শুধু কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ এই বকেয়া দাবি পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তাই আইডিআরএকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টিও পরিষ্কার করতে হবে। অন্যদিকে আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন জানিয়েছেন, তথ্য গোপন বা অনিয়মের দিন শেষ হয়ে এসেছে এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এফডিআর, ট্রেজারি বন্ড ও জমি বিক্রির মতো বিভিন্ন উপায়ে সম্পদ নগদায়ন করে বকেয়া পরিশোধের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *