৪৫ বছর মুসল্লিদের নামাজে ডেকেছেন, বিদায়বেলায় পেলেন ২ লাখ টাকা

ধর্ম ডেস্ক: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঐতিহাসিক সাতৈর শাহী জামে মসজিদে দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন শেষে অবশেষে অবসরে গেছেন মোহাম্মদ মতিউর রহমান। স্থানীয়ভাবে তিনি সবার কাছে ‘মতি হুজুর’ নামেই সমধিক পরিচিত। তাঁর সুমধুর কণ্ঠে আজানের ধ্বনি শুনেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে ছুটে আসতেন। নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে টানা ৪৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর তাঁর এই অবসর গ্রহণের বিষয়টি স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনের এই বর্ণাঢ্য অধ্যায় সমাপ্তির মুহূর্তে প্রবীণ এই মুয়াজ্জিনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি সাতৈর শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর সম্মানে একটি সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মসজিদ কমিটি এবং স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁর দীর্ঘ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ নগদ দুই লাখ টাকা এবং একটি বিশেষ সম্মাননা পোশাক তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, মতি হুজুর কেবল একজন সাধারণ মুয়াজ্জিনই ছিলেন না, বরং তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। নির্দিষ্ট সময়ে আজান দেওয়ার পাশাপাশি মসজিদের সার্বিক দেখাশোনা করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সময়ের পরিক্রমায় তিনি পুরো এলাকার মানুষের কাছে একজন পরম শ্রদ্ধেয় মুরব্বি ও আপনজন হিসেবে স্থান করে নিয়েছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক সাতৈর শাহী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি খন্দকার নাজিরুল ইসলাম এবং ময়না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউল আজম মৃধাসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা তাঁর সুদীর্ঘ ও নিবেদিতপ্রাণ সেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক সাতৈর শাহী জামে মসজিদে মতি হুজুরের সাড়ে চার দশকের কর্মময় এক সোনালী অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *