শিক্ষক রনজিলা নিহত: রিমান্ড শেষে ৩ আসামি কারাগারে

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে নিহত স্কুলশিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামিকে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে পাঁচ দিনের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের আদালতে হাজির করা হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক সব পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত রিমান্ড মেয়াদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করলে এই আদেশ দেওয়া হয়।

কারাগারে পাঠানো অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি হলেন মো. পনি ওরফে প্যারা পনি ওরফে পনি গাজী, সেড্রিক জুলিয়ান এবং মো. রাকিব হোসেন। গত ২৯ আগস্ট ভোরে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ ছায়া তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-২ এর সদস্যরা এই তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত একটি স্মার্টফোন, কিছু নগদ অর্থ এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি শক্তিশালী ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে ট্রেন বা অন্য মাধ্যমে ঢাকায় এসে অটোরিকশায় করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পার হচ্ছিলেন তিনি। ঠিক সেই মুহূর্তেই জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা চলন্ত অবস্থায় তার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দেয়। এই আকস্মিক হ্যাঁচকা টানে তিনি রিকশার ওপর থেকে ভারসাম্য হারিয়ে সরাসরি পিচঢালা সড়কে ছিটকে পড়েন এবং মাথায় অত্যন্ত মারাত্মক আঘাত পান।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করার পথেই তার মৃত্যু ঘটে। এই অপ্রত্যাশিত ও শোকাবহ মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা ও ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। মামলার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দ্রুততার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং রিমান্ড শেষে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *