৬ মাস শুল্ক-কর ছাড়ে সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানি করা যাবে

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদী শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই শুল্ক ছাড়ের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার পর অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত এই নীতি অনুযায়ী, সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে পরবর্তী ছয় মাস বা ১৮০ দিন পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা অত্যন্ত সহজ শর্তে ও নামমাত্র শুল্কে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেশের বাজারে নিয়ে আসতে পারবেন।

সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে নির্দিষ্ট কিছু খাতের কর ও শুল্কের বোঝা থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি মিলবে। এর মধ্যে রয়েছে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি এবং সব ধরনের সম্পূরক শুল্ক। এছাড়া মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়করের আওতা থেকেও এসব যন্ত্রপাতিকে সাময়িকভাবে মুক্ত রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ খুব দ্রুতই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই শুল্ক-কর অব্যাহতির কারণে দেশে দ্রুত গতিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে জনজীবনে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখা, সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কলকারখানার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, এই ধরনের সময়োপযোগী পদক্ষেপে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক ও গতিশীল প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তা ও সার্ভিস প্রোভাইডার তৈরির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতকে আরও বেশি আত্মনির্ভরশীল করে তোলা যাবে। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ দেশের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *