সৌদির সমর্থনে হুতিদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের

দেশের বাকি থাকা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং হুতি বিদ্রোহীদের অবসান ঘটাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাতের প্রতিবেদ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রস্তুতি ও সামরিক সমাবেশের পর দেশটি এখন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। দেশের সব সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা রক্ষী এবং সামরিক ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

শান্তির পথ পরিহার করে হুতি বিদ্রোহীরা উল্টো হামলা ও উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। রাষ্ট্র এর আগে সংঘাত এড়াতে যথেষ্ট সময় ও সুযোগ দিলেও বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তার জবাবে সামরিক তৎপরতা জোরদার করে এবং বেসামরিক নাগরিক, জাতীয় স্থাপনা ও আন্তর্জাতিক নৌপথে হুমকি অব্যাহত রাখে। তবে এই অভিযান কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা গোত্রের বিরুদ্ধে নয় বলে স্পষ্ট করেছেন আল-আলিমি। হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা বিদ্রোহী যোদ্ধাদের অবস্থান ও রসদ সরবরাহ পথ থেকে নিজেদের দূরে রাখেন এবং সন্তানদের যুদ্ধ থেকে রক্ষা করেন। একই সঙ্গে যারা অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন, তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সামরিক বিজয়ের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত এলাকায় দ্রুত সুশাসন ও নাগরিক সুবিধা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বাহিনী যেসব এলাকা মুক্ত করবে, সেখানে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে সেই বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মেরামত এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদে ঘরে ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা। আল-আলিমি জানিয়েছেন, এই অভিযানের সফলতা কেবল ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে না, বরং কতজন নাগরিক নিরাপত্তা ফিরে পেলেন এবং কতটি পরিবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারল, সেটাই হবে আসল মানদণ্ড।

দক্ষিণাঞ্চলীয় সংকট নিরসনে সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা সংলাপের ফলাফলের প্রতিও নিজেদের অটুট অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন ইয়েমেনি নেতা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক সমস্যার একটি ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য এই সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক ও মানবিক পুনরুদ্ধারে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। ইয়েমেনের সামরিক, নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের কবল থেকে সম্পূর্ণ দেশ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *