আমার শিক্ষক ট্রলারচালক মিলন ভাই

ফিচার ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝে মাঝে এমন কিছু মানুষের দেখা মেলে, যাদের জীবনসংগ্রাম ও ইতিবাচক মনোভাব চারপাশের মানুষকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। কিছুদিন আগে বাসা পরিবর্তনের কাজে গিয়ে এমনই একজন ব্যতিক্রমী মানুষের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল। তিনি হলেন মিলন ভাই, পেশায় একজন ট্রলারচালক হলেও যার ভেতর লুকিয়ে আছে একজন প্রকৃত শিক্ষকের মনন ও উদারতা। সাধারণ এই মানুষটির জীবনযাপনের ধরন এবং মানুষের প্রতি তার দায়িত্ববোধ যে কাউকে সহজে মুগ্ধ করতে বাধ্য করে।

যাত্রাপথে কথা বলতে গিয়ে তার এই ভিন্ন পেশায় যুক্ত হওয়ার পেছনের গল্পটি উন্মোচিত হয়। ট্রলার চালানোর মতো কঠিন ও পরিশ্রমী পেশায় কেন তিনি এলেন, সে বিষয়ে কৌতূহল প্রকাশ করলে তিনি অত্যন্ত হাসিমুখেই তার জীবনের দর্শন তুলে ধরেন। তিনি জানান, শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি মানুষের উপকারে আনন্দ পান এবং প্রতিদিন নিজের কাজের পরিধি আগের দিনের চেয়ে একটু হলেও বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করেন। তার এই সরল স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, মানুষের কল্যাণ করার জন্য বিশাল কোনো ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না, কেবল সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার এই ব্রত সম্পর্কে মিলন ভাই আরও জানান যে, সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় তিনি সবদিক থেকেই ভালো অবস্থানে আছেন এবং এই স্বস্তির পেছনে রয়েছে সাধারণ মানুষের অন্তরের দোয়া। প্রতিদিন অন্তত একজনের বেশি মানুষের উপকারে আসার যে মানসিকতা তিনি লালন করেন, তা বর্তমান যান্ত্রিক সমাজে বিরল বললেই চলে। তার এই কথায় অহংকার বা আড়ম্বরের লেশমাত্র ছিল না, ছিল কেবল এক ধরনের আত্মিক শান্তি ও কৃতজ্ঞতাবোধ।

পেশায় ট্রলারচালক হলেও তার প্রতিটি কথা ও আচরণে একজন আদর্শ শিক্ষকের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী শিক্ষকতা ও ট্রলার চালানো দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জগত হলেও, মিলন ভাইয়ের কাছে মানবসেবাই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। তার এই অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনকাহিনি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পেশা যাই হোক না কেন, মহৎ গুণাবলি ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করে তোলা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *