প্রার্থনা আর পুষ্পাঞ্জলিতে মহাসপ্তমী

জাতীয় ডেস্ক: ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি এবং পুরোহিতদের পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি মহাসপ্তমীর নানা ধর্মীয় আচার ও পূজা-অর্চনা সম্পন্ন হয়েছে। দেবীর বোধন ও নবপত্রিকা প্রবেশের মাধ্যমে এদিনের মূল পূজার কার্যক্রম শুরু হয়, যা দেখতে মণ্ডপগুলোতে ভিড় করেন বহু মানুষ। ঢাকের আওয়াজ আর ধূপের গন্ধে চারপাশের পরিবেশ হয়ে ওঠে ভক্তিময় ও উৎসবমুখর।

রাজধানীর ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী রমনা কালীমন্দির প্রাঙ্গণে মহাসপ্তমীর সকালে বিশেষভাবে নজর কাড়ে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। বিভিন্ন বয়সের সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও শিশুরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মণ্ডপে উপস্থিত হয়ে দেবীর দর্শনে অংশ নেন। শান্তিপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মন্দিরের প্রতিটি কোণ মুখরিত হয়ে ওঠে ধর্মীয় বন্দনা ও স্তোত্রপাঠে। উৎসবের এই দিনটিতে সবার মনেই এক অন্যরকম আনন্দ ও উদ্দীপনা কাজ করতে দেখা যায়।

পূজামণ্ডপগুলোতে সকাল থেকেই ভক্তদের লাইন ধরে দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন করতে দেখা যায়। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার সময় নারী ও পুরুষ ভক্তরা করজোড়ে নিজেদের পরিবারের মঙ্গল ও দেশের শান্তি কামনা করেন। ধর্মীয় এই আচার পালনের সময় সবার মুখেই ছিল দেবীর আরাধনার সন্তুষ্টি ও পরম ভক্তির ছাপ। প্রার্থনা শেষে ভক্তরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান এবং মণ্ডপের চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করেন।

মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল পুরোহিতদের নিপুণহাতে দেবীর আরতি ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন। পূজার বেদির সামনে ধূপের ধোঁয়া আর প্রদীপের আলোয় এক দিব্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা ভক্তদের মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। আরতি শেষে বহু ভক্ত প্রদীপের শিখা ছুঁয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন এবং দেবী দুর্গার চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সব মিলিয়ে এই উৎসবের দিনটি রাজধানীজুড়ে এক মেলবন্ধন ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *