বদলে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, চালু হচ্ছে এআই বিভাগ

শিক্ষা ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত প্রসারের ফলে বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল নতুন এআই বিভাগ চালুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং শিক্ষার্থীদের কী পড়ানো হবে এবং তাদের দক্ষতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে—সেই মৌলিক কাঠামোগুলোও নতুন করে ভাবছে। প্রযুক্তির এই অগ্রগতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর নামী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পাঠ্যক্রমে নানা উদ্ভাবনী পরিবর্তন আনছে।

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি বা এনটিইউ এআই শিক্ষাকে কেবল কম্পিউটার বিজ্ঞান বা প্রকৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক ও কলাসহ সব বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তাদের সিংহভাগ ডিগ্রি কর্মসূচিতে এআই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী শেখার সুযোগ পাবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিক্ষার্থীকে শুধু নিজস্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ করা নয়, বরং তাদের এমনভাবে গড়ে তোলা যেন তারা নিজ ক্ষেত্রের জ্ঞানের পাশাপাশি এআই এজেন্টগুলোকেও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে।

অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর বা এনইউএস প্রযুক্তি ব্যবহারের চেয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তন প্রক্রিয়া ও শেখার পদ্ধতির ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি মনে করে, প্রযুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী, উল্টোটি নয়। ফলে তারা মৌলিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিমাণগত যুক্তি বিশ্লেষণ ও গণনামূলক চিন্তাপদ্ধতি শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কেবল উত্তর নয় বরং চিন্তাপ্রক্রিয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন বা কেসিএল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে প্রচলিত পরীক্ষার পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠদান পদ্ধতি সাজাচ্ছে। তাদের আইন বিভাগে পেশাদার আইনজীবী প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতা ও যথার্থতা সমালোচনামূলকভাবে যাচাই করতে শেখে। এছাড়া লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস বা এলএসই প্রযুক্তিগত ডিগ্রির চেয়ে এআইয়ের সামাজিক প্রভাব ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *