সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী: আমান

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে গভীরভাবে বিশ্বাস করে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, এ দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই পালন করতে পারবেন। সম্প্রতি সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ও ভাকুর্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিএনপি নেতা আমান এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উদ্ভূত সংকটগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় তেঁতুলঝোড়ায় উপস্থিত স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও অসুবিধার কথা তার কাছে তুলে ধরেন। তাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ নেই, এ দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিখ্যাত রাজনৈতিক স্লোগান ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও কল্যাণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গঠনে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সার্বিক সামাজিক সম্প্রীতি টিকিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নেই।

সফরের শেষ পর্যায়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বেশ কিছু জনকল্যাণমূলক কাজের ঘোষণা দেন এই রাজনৈতিক নেতা। তিনি এলাকার বেশ কয়েকজন অস্বচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, স্থানীয় সংস্কৃতি চর্চাকে টিকিয়ে রাখতে এবং তরুণ সমাজকে উৎসাহী করতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের মাঝে প্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্র কিনে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজি মহিউদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতা ননী গোপালসহ দলের অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *