অর্থনীতির গতি আরও কমেছে, পাঁচ কারণে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আরও মন্থর হয়েছে এবং এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে শিল্প উৎপাদন খাতের ব্যবসার সংকোচন। সম্প্রতি প্রকাশিত পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআইয়ের মূল্যায়নে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা যৌথভাবে তৈরি করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পণ্যের নতুন ক্রয়াদেশ, কাঁচামালের মজুত এবং আমদানি কমে যাওয়ায় গত মাসে শিল্প খাতের পাশাপাশি সেবা ও নির্মাণ খাতও দুর্বল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। একমাত্র কৃষি খাতটি ইতিবাচক ধারায় থাকলেও সামগ্রিক অর্থনীতির গতি বাড়াতে তা পর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়নি।

অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোর চারশটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে পিএমআই সূচক তৈরি করা হয়। সাধারণত ৫০ পয়েন্টকে অর্থনীতির সম্প্রসারণ বা সংকোচনের সীমানা হিসেবে ধরা হয়, যেখানে সূচক এর নিচে নামলে সংকোচন বোঝায়। গত মাসে এই সূচকের মান কমে ৪৮ দশমিক ৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা আগের মাসে ছিল ৪৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট। এর মাধ্যমে গত দুই বছর ধরে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও উত্থান-পতনের চিত্রটি আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ীদের কাছে।

দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এর পেছনে প্রধানত পাঁচটি কারণকে দায়ী করেছেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামাল ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, সাধারণ মানুষের দুর্বল ক্রয়ক্ষমতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র ঘাটতি এবং ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ব্যবসায়িক পরিবেশকে কঠিন করে তুলেছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন আরও ব্যাহত হতে পারে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, উৎপাদন খাতের পিএমআই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৪৪ দশমিক ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে যা সার্বিক সূচক পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া নির্মাণ খাত নতুন করে সংকোচনের মুখে পড়ে ৪৮ দশমিক ৫ পয়েন্টে নেমেছে এবং সেবা খাত টানা দুই মাস ধরে নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। তবে এর বিপরীতে কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রসারণের ধারা ধরে রেখেছে যদিও সেখানেও বৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ জানিয়েছেন যে, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে অবিলম্বে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যয়চাপ কমানো এবং অর্থায়নের সুযোগ সহজ করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *