ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১১৬৩

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে এবং এর মধ্যেই মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও এক জনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় সারাদেশে এক হাজার একশ ষাট জনের বেশি নতুন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হওয়ার জন্য ভর্তি হয়েছেন। এই নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের মোট সংখ্যা বেড়ে দুইশ পঞ্চাশ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে এডিস মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তি ঢাকা বিভাগের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। চলতি বছর মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি ছিল যেখানে একশ আটচল্লিশ জন মারা যান। এছাড়া বছরের শুরু থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়লেও অক্টোবরের প্রথম ভাগে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে।

নতুন আক্রান্তদের বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালেও বহু রোগী চিকিৎসাধীন হয়েছেন। তবে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়, ঢাকার সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সারাদেশে মোট बিরাশি হাজার সাতশ একষট্টি জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অবশ্য স্বস্তির বিষয় হলো যে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট পাঁচ হাজার ছয়শ উনপঞ্চাশ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *