গত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক পোশাক কারখানা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে বিজিএমইএ-এর ২৮২টি এবং বিকেএমইএ-এর ১২৩টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক তালিকা তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন।
কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে বেশ কিছু বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটকে দায়ী করেছেন মন্ত্রী। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বাণিজ্য চুক্তি এবং ছোট ও মাঝারি কারখানায় বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়াকেও শিল্পের এই সংকটের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পোশাক খাতের ঘুরে দাঁড়াতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রদান করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বন্ড সুবিধাসহ রপ্তানি উৎসাহিত করতে বিশেষ নগদ সহায়তার হার বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৩ শতাংশ অতিরিক্ত সুবিধাসহ সামগ্রিক পোশাক শিল্পে নগদ প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।


