ব্যাংকে টাকা গুনছিলেন গ্রাহক, কৌশলে ৪ লাখ টাকা নিয়ে উধাও চোর

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা নগদ টাকা গোনার সময় অভিনব কায়দায় চুরির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংক চত্বরে বসে পরিবারসহ টাকা গুনছিলেন এক গ্রাহক, ঠিক সেই মুহূর্তেই তার অজান্তে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় এক প্রতারক। এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্থানীয় পূবালী ব্যাংক শাখা থেকে বিভিন্ন অঙ্কে মোট সাত লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকাগুলো তোলার পর তিনি ব্যাংকের ভেতরের একটি সোফায় বসে তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার ও পুত্রবধূ পলি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে টাকার বান্ডেলগুলো পুনরায় গণনা করছিলেন। এ সময় তিনি ১ হাজার টাকার নোটের চারটি বান্ডেল, অর্থাৎ মোট চার লাখ টাকা গুনে তার পেছনে রেখে দেন এবং বাকি টাকাগুলো গণনা করতে থাকেন।

পরিবারের সবাই যখন বাকি টাকাগুলো মনোযোগ সহকারে গোনায় ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখন তাদের পাশেই বসে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি অত্যন্ত সুকৌশলে পেছনে রাখা চার লাখ টাকার বান্ডেলগুলো সরিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে সব টাকা গুনে মোট অঙ্কের হিসাব না মেলায় ওই গ্রাহক ও তার পরিবার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যালোচনা করে তারা নিশ্চিত হন যে, পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তিই অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের বড় অঙ্কের টাকা চুরি করে পালিয়ে গেছে।

টাকা হারানোর এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে রাতেই দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পূবালী ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক মো. ওয়ায়েছ মাসুম চৌধুরী জানান, গ্রাহক টাকা উত্তোলনের পর গণনায় এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে চারপাশের অবস্থা খেয়াল করতে পারেননি, আর এই সুযোগটিই কাজে লাগায় ওই প্রতারক চক্রের সদস্য।

এদিকে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান যে তারা এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ হাতে পেয়েছেন। পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে এবং খুব শীঘ্রই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *